প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে শনিবার (২১ মার্চ) যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় সাতক্ষীরায় মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ভোর রাত থেকে টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে এবার জেলার অধিকাংশ স্থানে ঈদগাহের পরিবর্তে পার্শ্ববর্তী মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মুসল্লিদের নামাজে অংশ গ্রহণের সুবিধার্থে প্রায় প্রতিটি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে।
সাতক্ষীরায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৭টায় শহরের মুনজিতপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের পাশে অবস্থিত একাডেমি মসজিদে। একই সাথে মসজিদের মধ্যে পর্দার ভিতর মহিলাদের ঈদের জামাতে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আখতার।
নামাজে ইমামতি করেন ইসলামী বক্তা হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসেন মমিন। বয়ান শেষে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, জেলা জামায়াতের আমির উপধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম মুকুল, সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুক, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলাসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্বোধন কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের মুসলিম জনসাধারণ।
এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক তার বক্তব্য বলেন, ইসলামের পরিপূর্ণ বিধান মেনে সমাজে যাকাত ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। পবিত্র এই দিনে আজ থেকে আমরা সকলেই শপথ গ্রহণ করি ভালো মানুষ হিসেবে ইসলামের নির্দেশনা মেনে সত্য কথা বলব, সুদ, ঘুস ও অন্যের হক ফাঁকি দিবো না এবং আমানতদারি ও ভাই বোনের হক পূরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ সবকিছু দেখেন মনের ভিতরে একথা ধারণ করে আল্লাহর প্রতি ভয় রেখে তাকওয়া ভিত্তিক জীবন গঠন করতে হবে। রমজানের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটানোর মাধ্যমে সমাজ, জাতি ও দেশের জন্য কাজ করতে হবে। এসময় জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আখতার-এর পক্ষে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।
পরবর্তীতে বৃষ্টি কিছুটা কমলে সাতক্ষীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। এখানে ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করেন হাফেজ মুফতি মাছুম বিল্লাহ। এছাড়া সাতক্ষীরায় ঈদেও প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সদর থানা জামে মসজিদে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে মসজিদে ঈদের নামাজে অংশ নেন। এতে উৎসবের আমেজ কিছুটা ম্লান হলেও ঈদের আনন্দে কোনো ঘাটতি ছিল না।
নামাজ পূর্ববর্তী আলোচনায় ইমাম বলেন, ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই শুদ্ধতার জয়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের এই খুশির দিন উপহার দিয়েছেন। আবহাওয়ার বৈরিতায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও আল্লাহর ঘরে সমবেত হতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। এই আনন্দ সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে।
নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

